নর্থ ইস্টকে হারিয়ে আবার আইএসএল শীর্ষে মোহনবাগান

গত চারটে ম্যাচে গোল ছিল না রয় কৃষ্ণের।তাই মোহনবাগানও মাঝে মাঝে আটকে যাচ্ছিল। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে আবার গোল পেলেন রয় কৃষ্ণ। জিতল এটিকে মোহনবাগান। এই জয়ের সুবাদে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান আবার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে গেল। যেভাবে মোহনবাগান প্রথম ৯টি ম্যাচ খেলল তাতে তাঁদের প্লে অফে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তুএবার তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য লীগ শীর্ষে থেকে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে কোয়ালিফাই করা। এ ব্যাপারে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মুম্বই এফসি যারা এখন দাঁড়িয়ে আছে ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে। দুই দল মুখোমুখি হবে ১১ জানুয়ারি।

মোহনবাগানের পক্ষে যেটা বলার কথা তাদের বিদেশিদের সঙ্গে চমৎকার মানিয়ে গেছেন স্বদেশীরা। গোলে অরিন্দম ভট্টাচার্য এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে সেরা। ৯ ম্যাচে যে গোলকিপার মাত্র তিনটি গোল খায়, তাঁকে তো সেরা বলতেই হবে। বিদেশী তিরির সঙ্গে চমৎকার সংযোগ করছেন প্রীতম কোটাল,সন্দেশ ঝিঙ্গন এবং শুভাশিষ বোস। মাঝমাঠে এদিন আন্তনিও হাবাস প্রথম থেকেই নামিয়েছিলেন শেখ সাহিলকে। গত বছর আই লীগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানের অন্যতম নায়ক। এই সাহিলই একমাত্র ফুটবলার যিনি আইএসএলে খেলার  সুযোগ পেয়েছেন। এবং ক্রমশ মানিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে। এদিন ৬৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। বিদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো খেলে গেছেন। বরং তাঁকে এগিয়ে  রাখতে হবে কার্ল ম্যাকিউর চেয়ে। এডু গার্সিয়া  কর্নার নেওয়ায় যতটা দক্ষ,খেলা তৈরিতে ততটা দক্ষ নন। তাই ম্যাচের বল পসেসন ৫৫ শতাংশ রেখেও মোহনবাগান সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

তাদের দুটো গোলই হল সেটপিস থেকে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫১ মিনিটে গার্সিয়ার কর্নার থেকেই চমৎকার হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণ। ছয় মিনিট যেতে না যেতেই আবার গোল। এবারও কর্নারটি নিয়েছিলেন এডু গার্সিয়া। ছ গজের মধ্যে থেকে সন্দেশ ঝিঙ্গনের শট ল্যাম্বাটের পায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। গোলটি করা ছাড়াও সারাক্ষন গোল করার জন্য ছোঁক ছোঁক করে গেছেন রয় কৃষ্ণ। কিন্তু তাঁর সঙ্গী ডেভিড উইলিয়ামসকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। ম্যাচের শেষদিকে ডেভিডের বদলি মনবীর সিংও সেভাবে দাগ কাটতে পারলেন না। বরঞ্চ প্রশংসা করতে হবে মোহনবাগান ডিফেন্সকে,নর্থ ইস্টার চাপের মুখেও তারা কিছুতেই ভেঙে পড়েনি। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে মোহনবাগান কিন্তু নিজেদের আরও গুছিয়ে নিচ্ছে। এই মোহনবাগান ক্রমশ অন্য দলগুলির কাছে ভয়ের কারণ হয়ে যাচ্ছে। বাকি ম্যাচগুলিতে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে তারা চ্যাম্পিয়ন লীগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচের সেরা হলেন রয় কৃষ্ণ। এরকম স্ট্রাইকার দলে থাকলে যেকোনও পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বার করা যায়।