Homeরাজনীতিমমতার প্রচারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্রের কালো দিন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধরনা

মমতার প্রচারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্রের কালো দিন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধরনা

মমতার নির্বাচনী প্রচারের ওপরে ২৪ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমোকে সতর্কও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধরনায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারটি সভা করার কথা ছিল। প্রথম সভা করা কথা ছিল বেলা ১১ টায়, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে দলীয় প্রার্থী তাপস মণ্ডলের সমর্থনে। দ্বিতীয় সভা করার কথা ছিল বেলা ১২ টায় নদিয়ার কল্যাণীতে দুই প্রার্থী অনিরুদ্ধ বিশ্বাস এবং নীলিমা নাগ মল্লিকের সমর্থনে। তৃতীয় সভা করার কথা ছিল, বেলা একটায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর সমর্থনে। ওইদিনের শেষ সভাটি করার কথা ছিল দুপুর দুটোয় বিধাননগরে, দুই প্রার্থী সুজিত বসু এবং তাপস চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে।

তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্র্যায়েন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন এটা গণতন্ত্রের পক্ষে কালো দিন। ইংরেজিতে ইসি অর্থাৎ ইলেকশন কমিশন না বলে তিনি এক্সট্রিমলি কম্প্রোমাইসড বলেও কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে দলের অপর নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই পারে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষের মন থেকে সরিয়ে ফেরতে পারবে না।

সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার ধরনায় বসবেন বলে জানা গিয়েছে। বেলা ১২ টায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তিনি ধর্নায় বসবেন। কমিশনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বামেদের তরফে বলা হয়েছে যদি নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করাই হয়, তাহলে কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না দিলীপ ঘোষ এবং সায়ন্তন বসুর ওপরে।

তারকেশ্বরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের কাছে ভোট ভাগ না করতে আবেদন করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক সভা থেকে মহিলাদের দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার কথা বলেছিলেন। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নন। তবে নির্বাচনে অমিত শাহের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। যার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। এরপরই কমিশনের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুবার শোকজ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিশন। এদিন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন তাতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

ট্রেন্ডিং নিউজ