Tuesday, June 28, 2022

বিল ফোর্ডের অপমান ভোলেননি রতন টাটা! জেএলআর কিনে ৯ বছর পর মধুর প্রতিশোধ

সাফল্যই প্রতিশোধের শ্রেষ্ঠ উপায়, এই আপ্তবাক্য মেনে, যদি কেউ নিজের সাফল্যের রাস্তা নিজে তৈরি করতে চান, তবে রতন টাটা ছাড়া আর কেই বা অনুপ্রেরণা হতে পারেন। ফোর্ডের মালিক বিল ফোর্ডের অপমানই এক নতুন রতন টাটার জন্ম দেয়।

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এমেরিটাস রতন টাটার হাত ধরেই ভারতে অটো মোবাইল শিল্পে বিপ্লব এসেছিল। ১৯৯০ সালে যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতীক ছিল টাটা ইন্ডিকা। তবে গোড়ায় যেটিকে সাফল্যের প্রথম সোপান বলে মনে হয়েছিল, রতন টাটার সেই স্বপ্নের গাড়ি কিন্তু ক্রেতাদের বিশেষ মনে ধরেনি। ক্রমশ টাটা ইন্ডিকার বিক্রি পড়তেই থাকে। এরপরই তাদের গাড়ি নির্মাণ বিভাগটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় টাটা মোটরস। ঠিক হয় মার্কিন সংস্থা ফোর্ডের হাতেই নিজেদের কার ডিভিশন তুলে দেবে টাটা মোটরস।

১৯৯৯ সালে ডেট্রয়েটে ফোর্ডের চেয়ারম্যান বিল ফোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন রতন টাটা। শোনা যায়, তিনঘণ্টার এই বৈঠকে রতন টাটাকে অনেক অপমানজনক কথা শোনান বিল। যেমন, যারা গাড়ি তৈরির কিছুই জানে না, তাদের গাড়ি তৈরি করতে যাওয়া নিতান্ত মূর্খামি। এমনকী বিল নাকি এও বলেন, টাটা মোটরস কিনে রতন টাটাকে দয়া করছেন তিনি।

নিতান্ত ভদ্রলোক রতন টাটা সব হজম করেন। কিন্তু সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই, এই অপমানের জবাব দেওয়ার সঙ্কল্প নিয়ে ফেলেন। ফোর্ডের অফিসে দাঁড়িয়েই সিদ্ধান্ত নেন, কার ডিভিশন বিক্রি হবে না। দেশে ফিরে নিজের ধ্যান-জ্ঞান, সময়-পরিশ্রম দিয়ে টাটা মোটরসের ছোট গাড়ি তৈরির বিভাগকে নতুন করে সাজিয়ে তোলেন।

ঠিক ন’বছর পর পাল্টে যায় পাশার দান। মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার মুহূর্তটি এসে দাঁড়ায় রতন টাটার সামনে। বিশ্ব মন্দার দরুণ ২০০৮ –এ ফোর্ড গ্রুপ যখন দেউলিয়া হওয়ার পথে,তখন ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসেন সেই রতন টাটাই। ২.৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেন জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ড। রতন টাটাকে ধন্যবাদ জানান বিল ফোর্ড নিজে। শুধু মধুর প্রতিশোধই নয়, জেএলআর-কে তিনি টাটা মোটরসের সবচেয়ে সফল প্রজেক্ট হিসেব তুলে ধরেন। কয়েক বছরের মধ্যে হু হু করে বিক্রি শুরু হয় জাগুয়ার আর ল্যান্ড রোভারের। টাটা মোটরসের মেরুদণ্ডে হয়ে দাঁড়ায় এই দুই গাড়ি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

LATEST REVIEWS