Homeরাজনীতিদূরত্ব বাড়ছে মুকুলের বঙ্গবিজপিতে গুঞ্জন

দূরত্ব বাড়ছে মুকুলের বঙ্গবিজপিতে গুঞ্জন

আচমকা হইচই পরে গেছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। মঙ্গলবার রাত থেকেই মুকুল রায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন টুইটার থেকে। অনেকে আবার বলছেন, হ্যাক হয়নি তো? কিন্তু হ্যাক হলে সেই একাউন্টে কিছু লিখে যায় হ্যাকাররা। এক্ষেত্রে সেটা হয়নি, শুধু মুকুল রায়ের আক্যাউন্ট ডিলিট হিসাবে দেখানো হচ্ছে। তাহলে কি স্বেচ্ছায় এই মাধ্যমটি থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি? দলে মুকুলের অনুগামীরা বলছেন, এটা বিস্বাস করা শক্ত, কারন টুইটারে তার অনুগামীর সংখ্যা সত্তর হাজারের বেশি। সুতরাং এত অনুরাগীকে উপেক্ষা করে সরে দাঁড়াবেন তিনি? এটা চট করে মেনে নেওয়া শক্ত। অনেকেই বলছেন বুধবার হয়ত জানা হবে হ্যাক নাকি স্বেচ্ছা নির্বাসন।

করোনার প্রভাব বাড়তেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন মুকুল রায়। একসময় দেখেন প্রচারের সব আলো থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। কাঁচড়াপাড়ায় বসে থাকায়, দলের মূলধারার সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই অবস্থায় দলের মূল ধারার সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে সল্টলেকে বাড়ি ভাড়া নেন মুকুল। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা , লোকের সঙ্গে দেখা করা শুরু করেন। কিন্তু সবটাই খুব মেপে। কারন সুগার এবং ব্লাড প্রেসার তার দুটোই হাই। সেইসঙ্গে উনি চেন স্মোকার, ফলে দুর্বল ফুসফুস। একারণেই নিজেঁকে বাঁচিয়ে কর্মসূচিগুলিতে অংশ নিতেও শুরু করেন। রাজভবনে স্মারকপত্র দেবার জন্য দলীয় প্রতিনিধি দলেও তাকে দেখা গেছে।

গত মাসে শুরুতে আচমকাই দিল্লি তলব করা হয় তাকে। তারপরই একাংশ মিডিয়ায় খবর হয়, মুকুল মন্ত্রিত্ব চেয়েছিলেন কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে নিরাশ করেছে। মুকুল রায় আবার তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু মুকুল রায় সেই খবর সম্পুর্ন অস্বীকার করেন। যদিও দলের একাংশের মনে প্রশ্নটা থেকেই যায়, সত্যি মুকুল রায়কে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নয় দল? তাহলে অমিত শাহ কি করে প্রকাশ্যে বলে গেলেন, ১৯ এর সাফল্যের মূল কান্ডারি মুকুল রায়? এরই নাম কি তথাকথিত “পলিটিক্স” ?? এই জল্পনা যখন চলছে তখন মুকুল রায় ক্রমশ দূরে সড়ে যাচ্ছেন দলের মূল স্রোত থেকে। দীলিপ ঘোষ, রাহুল সিনহাদের উপস্থিতি প্রকট কিন্তু মুকুল কোথায়? অনেকে এই প্রশ্নও তুলছেন, সাম্প্রতিক কালে মমতাকে আক্রমণ করার ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডাটাও শিকেয় তুলে রেখেছেন তিনি। ডিজিটাল সভায় টু দা পয়েন্ট বলে বক্তব্য শেষ করেছেন। আবার তার সামনেই তৃণমূলকে চাছাছোলা আক্রমণ করেছেন দীলিপ ঘোষরা। তাহলে কি গুঞ্জনের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল আছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে দলের কর্মীরা।

ট্রেন্ডিং নিউজ