Home রাজনীতি ‘মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে নন্দীগ্রামে আমরাই জিতবো

‘মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে নন্দীগ্রামে আমরাই জিতবো

‘মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে নন্দীগ্রামে আমরাই জিতবো।’ বয়ালের ৭ নম্বর বুথ থেকে বেরিয়ে বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করলেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কাল রাত থেকে অসভ্যতামি করছে। আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে। যতই কারচুপি হোক জিতব আমিই নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই। কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাদের বন্ধু। কয়েক জায়গায় ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির হয়ে ভোট করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রামে ৯০% ভোট পেয়েছে তৃণমূল। গোটা বিষয়ে কমিশনের নীরবতা দেখে আমি স্তম্ভিত।’ নির্বাচন কমিশনের একপেশে মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এদিন ভোটগ্রহণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ভোট প্রচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা। সকাল থেকেই এই অঞ্চলের বয়াল গ্রামের ভক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭নং বুথে তৃণমূলের এজেন্টকে বসতে না দেওয়া ও তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে দুপুরে সেই বুথ পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। প্রতিবাদে তেড়ে আসেন তৃণমূল কর্মীরা। দুপক্ষের উত্তেজনার মধ্যে মানব প্রাচীর গড়ে যুযুধান দুই পক্ষকেই নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালান পুলিশ কর্মীরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘বাইরে থেকে কেন লোক নিয়ে এসেছেন? হিন্দিতে কথা বলছে তাঁরা। এ সবই হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে। আমরা নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা না নিলে আদালতে যাব।’ নন্দীগ্রামের বয়ালে থেকে বেরোনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া হয়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রীতিমতো সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর র‍্যাফ ও পুলিশ বাহিনী। নন্দীগ্রামের বয়ালে গ্রামবাসীদের সঙ্গেও কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ফোনে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যপালকে পুরো ঘটনা জানান।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে এখানে ৬৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’ প্রায় ১ ঘন্টা এই বুথে বসে থাকার পর কমিশনের তরফে পুলিশ পর্যবেক্ষক নগেন্দ্র প্রসাদ ত্রিপাঠি এসে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ শোনেন। তিনি কথা বলেন প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গেও। এরপর কমিশনের তরফে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিরাট কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশ কর্মীদের সহায়তায় বুথ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে বের করে নিয়ে আসা হয়। নন্দীগ্রাম থেকে কেশপুর, দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের একাধিক ঘটনার সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে পাঠালেন উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অধিকারিক (সিইও) আরিজ আফতাবকে ফোনও করেন তিনি।

অপরদিকে, কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত  ভোট পড়েছে ৮০.৪৩%। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৯.৬৫%, পূর্ব মেদিনীপুরে ৮১.২৩%, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৮.০২ %, বাঁকুড়ায় ৮২.৯২% এবং নন্দীগ্রামে ৮০.৭৯% ভোট পড়েছে।

ট্রেন্ডিং নিউজ